পৃষ্ঠাসমূহ

ডেক্সামেথাসন (dexamethasone) , ইউনানী ব্যথার ওষুধ ও অন্যান্য বাজে ওষুধ থেকে সাবধান

আজকাল নিয়মিত কিছু অপহোমিওপ্যাথি ডাক্তার তাদের চেম্বারে ব্যথা নিয়ে কোন রুগী আসলেই ডেক্সামেথাসন দিচ্ছেন, তা যেকোন ব্যথায় হোক (যদিও এটি ক্রনিক কেস ছাড়া ব্যবহার হয় না)। যা একজন রুগীকে চিররুগী বানাতে সহযোগীতা করছে। এর সাথে বিভিন্ন ইউনানী ব্যথার ওষুধ,তেল, সিরাপ দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ এগুলোকে হোমিও ওষুধ ভেবে দিনের পর দিন খেয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ অসুখ থেকে্ একটা বা একাধিক জটিল রোগের সৃষ্টি করছে। হোমিও ডাক্তাররা্ এধরনের ওষুধ দিচ্ছেন কেন?(অ্যালোপ্যাথি ডাক্তারদের কথা বাদই দিলাম) ১. এসব ওষুধ কোন কোন ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি কাজ করে।( অবশ্য হোমিও ওষুধ লক্ষণ সাদৃশ্যে দিলে এর চাইতেও তাড়াতাড়ি কাজ করে।) ২. অল্প খরচে বেশি লাভ। ৩. হোমিওপ্যাথিতে রুগীর চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ ব্যপার তাছাড়া বিদ্যার জোরও দরকার কিন্তু অধিকাংশ হোমিও চিকিৎসকের বিদ্যার জোর কম , তাই রুগীর নিকট নাম কমানোর জন্য এসব ওষুধ দিয়ে থাকে। একজন ভাল হোমিও চিকিৎসক কখনোই রুগীকে এসব এসব ওষুধ দিবেন না, কারণ তিনি এর ভয়াবহতা সম্পকে জানেন। যেমন- একজন রুগী এসব ওষুধ খেয়ে বলেন- জানিস ওমুক বড় ডাক্তারের কাছে ওষুধ খেয়ে কিছু হলো না এই হোমিও ডাক্তারের কাছে দুই দিন কিছু ব্যথার ট্যাবলেট খেয়ে এখন আমার ব্যথা সম্পুণ ভালো । আসলে তার ব্যথা ভালো হয়নি দমন রাখা হয়েছে, এই রুগী এসব ওষুধ দুই/তিন বছর খাবার পর আরো কিছু কিছু জটিল রোগসহ চেম্বারে ফিরে আসে। এসব রুগীর বোধগম্যতা আসার আগেই সেই অপহোমিওপ্যাথ প্রচুর টাকা পয়সা ইনকাম করে বিশাল বড় নামধারী ডাক্তারে পরিণত হয়। এসব ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ: ১. যেকোন অর্গান ড্যামেজ হতে পারে (কিডনী, লিভার, হার্ট ইত্যাদি) ২. শরীরে জল ধরে। শরীর ফুলে যায়। ৩. মাথার চুল পড়ে যেতে পারে। ৪. রক্তের সমস্যা হয়। বিভিন্ন স্কিন ডিজিজ দেখা দিচ্ছে। ৫. স্টমাক আলসার হয়। ৬. মাথা ঘোরানো, মাথা ব্যথা, ঝিমঝিম ভাব, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। ৭. দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের ফলে অনেকেরই কোষ্ঠ্যকাঠিন্য হতে পারে। ৮. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ৯. ব্যথানাশক ওষুধের প্রতি নির্ভরশীলতা, আসক্তি সৃষ্টি হয়। ১০. হরমোনাল সমস্যা হয়। ১১. দীর্ঘদিন সেবনে ভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হতে পারে ইত্যাদি। ব্যথা হলে কি করবেন: ১. একজন পিউর হোমিওপ্যাথিকের কাছে চিকিৎসা করাতে পারেন। ২. নিয়মিত ব্যয়াম করতে হবে। ৩. মুল কারণ বা পরিবেশ থেকে বের হতে হবে। ৫. বাত, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, এমনকি হতাশা থেকেও ব্যথা হতে পারে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ৬. সার্জারীর প্রয়োজন হলে করাতে হবে। ৭. ফিজিওথেরাপীর আশ্রয় গ্রহণ করা যেতে পারে। ৮. ভিটামিন ডি স্বল্পতা, পুষ্টিহীনতা, পানিস্বল্পতা, ইউরিক এসিড বেড়ে আছে কিনা খেয়াল রাথতে হবে। ইত্যাদি। এসব ওষুধ চিনবেন কিভাবে: সাধারণত হোমিওপ্যাথিতে কোন,ফাইল ট্যাবলেট(বায়োকেমিক ছাড়া) নেই। যদিও ডেক্সামেথাসনের ছোট ট্যাবলেটটা দেখতে বায়োকেমিকের মত মনে হয়, এক্ষেত্রে ওষুধ ডায়রেক্ট মুখে দিয়ে দেখবেন যদি তিতা মনে হয় বুঝবেন এটিই ডেক্সামেথাসনের বা অন্য কোন ব্যথার ট্যাবলেট, বাযোকেমিকের ট্যাবলেট গুলো তিতা হয় না। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কিভাবে সিম্পল একটা রোগ এসব ওষুধ হরহামেশায় গ্রহনের কারণে জটিল আকার ধারণ করেছে। যেসব রুগী হয়ত এক ডোজ হোমিও ওষুধে ভাল হয়ে যেত তারাও জীবনভর ওষুধ গ্রহন করছে। তাই সবার নিকট করজোড়ে অনুধরণ দয়া করে নিজের সামান্য লাভের জন্য একটি রুগীর জীবন নস্ট না করি। নিজের আথিক লাভ না দেখে রুগীকে ভালবাসি, তারাও আমাদের ভালবাসবে, আসবে সফলতা ও পরকালীন মুক্তি।
ডা. শাহাদাত হোসাইন ডি.এইচ.এম.এস বিবিএ,এমবিএ(রাবি)

No comments:

Post a Comment

Thanks for your comment